পৃষ্ঠাসমূহ

রবিবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০১০

গন্ধ





ঘুম থেকে জেগে মনের ভ্রান্ত ধারণা স্বচ্ছ হল মদনের । কাক ডাকা ভোর নয় , অলরেডি বেলা-দুপুর । আজিব ! যারা মাল খেয়ে ঘুমায় তারা ও তো এত বেলা পর্যন্ত ঘুমায় না । তবে কী সে সর্বনিম্নস্তরের ডালখোর ?

কোনোমতে প্যান্টের ভেতর সার্ট গুঁজে অভুক্ত অবস্থাতেই কলেজে ছুট ! ক্যাম্পাসে মুখোমুখি সংঘর্ষ  মোহনের সাথে । বলে রাখি - কলেজে মোহন ই মদনের একমাত্র ঘনিষ্ঠ বন্ধু ।   ওরা দু'জন  হোষ্টেলের ছাদে বহুরাত কাটিয়েছে শুধু গল্প করতে করতে -- জীবনের গল্প  , নিজেদের ছোটবেলা আর বড়বেলার গল্প , প্রেম ভালোবাসা সাফল্য ব্যর্থতা বসন্ত আর হসন্তের গল্প !

যাকগে সেসব কথা । মুখোমুখি হতেই  মোহন দু'পা পিছিয়ে গিয়ে বলল , 'কিরে ? গা ধোওয়া হয়নি কদ্দিন ?'
মদন  নির্লজ্জের সুরে বলল , 'এইতো সেদিন ই ধুয়েছি'
- সেদিন টা কবে শুনি ?
- গত শুক্রবারের আগের বৃহস্পতিবার ।
- বাসায় তুই একা থাকিস ?
- না ।
- একা ঘুমাস ?
- কেন ?
- বল্ , কারণ আছে ।
- আমার ইয়ংগার আংকেল থাকেন আমার সংগে । সেমি-ডাবল খাট্ । বাঙালি মানুষ - তাই দু'জন ঘুমাতে কষ্ট হয় না ।
- তোর আংকেলের ঘুম হয় ?
- কী উদ্ভট প্রশ্ন !
- ঘুম হয় কিনা তুই কখনো খেয়াল করিস নি ?
- না তো ।
- খেয়াল করে দেখিস , নিশ্চই ঘুম হয় না ।
- কারণ কি ? ঘুম হবে না কেন ?
- বুঝতে পারছিস না ?
- না।
- তোর সংগে দেখা হতেই আমি কোনোরকম চিন্তা-ভাবনা ব্যাতিরেকে  দু'পা পিছিয়ে এসেছি  , লক্ষ্য করেছিস ?
- হ্যা ।
- কেন বলতো ?
- জানি না ।
- তোর গা থেকে ২০০ হর্স পাওয়ারে গন্ধ আসছে । মরা ছুঁচোর গন্ধ । তা ও আবার নগদ্ মরা না , চার-পাঁচদিন আগের মরা । আমি তো আমি ! একটা শিমপাঞ্জী ও তোর শরীরের গন্ধে অক্কা পাবে !

ভীষণ লজ্জা পেল  মদন । তার গা থেকে চার-পাঁচদিনের  মৃত বাসি ইঁদুরের গন্ধ এর আগে তাহলে অনেকেই পেয়েছে । অথচ , মুখ ফুঁটে বলেনি কেউ । হয়তো বলার আগেই বমি করে দিয়েছে , বলার সুযোগটুকু পায়নি । কলেজের সুন্দরীদের মুখ টিপে হাঁসার রহস্য তাহলে এই !!!
-  কি রে ? ভোন্দা ধরে গেলি যে !

মোহনের আতকা ধাক্কায় সচকিত হয় মদন !

 

 

একা দশ


আমাদের রসায়ন ক্লাসে প্রতিদিন ই একটা না একটা কান্ড ঘটে ।  একাদশ শ্রেণী অথচ এগারো জন স্টুডেন্ট ও প্রতিদিন হাজির থাকি না । ক্লাসে  আমরা টোটাল চৌদ্দ জন ; তন্মধ্যে দু'জন আছে যারা মাসে এক দিন বেড়াতে আসে । এক জন আছে - প্রতিদিন ই যার জ্বর , কাঁশি কিংবা সর্দি হয় ।  আর যে দু'জন - তাদেরকে মাঝে মধ্যে আমাদের ক্যান্টিনে খুঁজে পাওয়া যায় ।  বাকী থাকলো নয় । আমাদের রসায়ন শিক্ষক 'মোঃ আবদুর রব' কে নিয়ে এই সংখ্যা দাড়ায় দশ এ ।  কথায় আছে - 'দশে মিলে করি কাজ , মেরে ফেলি T2-ফাজ ।

ক্লাসে টোটাল দশ ; কিন্তু দশম সদস্য 'আবদুর রব' এর কাছে আমরা সবাই বশ ।
স্যার প্রতিদিন আমাদেরকে রসায়ন বিষয়ে কিছু অ্যাসাইনমেন্ট দেন । সেগুলো বাসা থেকে করে এনে পরদিন আবার স্যারকে দেখাতে হয়। 'অ্যাসাইনমেন্ট' কিন্তু খুব সোজা কাজ নয় , অসম্ভব না হলে ও বেশ কঠিন । এর কিছু ফর্মালিটিজ আছে - কাগজের আলাদা শিট , এক ইঞ্চি বাই এক ইঞ্চি মার্জিন ইত্যাদি ইত্যাদি । 

এমনিতেই একাদশ শ্রেণী ; তার ওপর শরীরে বিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে একটা আলাদা রকমের তকমা আঁটা ।

রসায়নের প্রথম ক্লাস । ক্লাসে ঢুকেই আমাদের সবাই কে যথেষ্ঠ পরিমাণ অবাক করে দিয়ে স্যার একটা লম্বা সালাম দিলেন ! আমরা কোনোমতে মুখের হাঁসি মখেই চেপে সালামের জবাব দিলাম । সালাম পর্ব শেষে আমাদের কে বসতে বলার কথা । কিন্তু তা না করে স্যার নিজেই বসে পড়লেন । অফিসরুম থেকে অ্যাটেনডেন্স খাতা আনতে পাঠালেন আমাদের ক্লাসের সব থেকে ক্যাবলা ছেলেটা কে ! সে বেচারি কলেজের অফিসরুম খুঁজতে খুঁজতেই ক্লাস টাইম পার করে দিল । আমাদের কারোর ই সেদিন রোলকল হল না !